বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আইন ও বিধিমালা রয়েছে। বায়ু ও শব্দদূষণ, শিল্প ও চিকিৎসা-বর্জ্য, প্লাস্টিক ও ময়লা-আবর্জনা, নদী-খাল-পুকুর-জলাশয় ভরাট, পাহাড় নিধন, মাটির ক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
Department of Environment +1
তবুও পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা আরও কার্যকর করতে ‘পরিবেশ পুলিশ (Environmental Police) নামে একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের বিষয়টি/প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে—যেমন শিল্প, হাইওয়ে ও পর্যটন পুলিশের বিশেষায়িত কার্যক্রম রয়েছে।
এই বাহিনীর দায়িত্ব হতে পারে—দূষণ মনিটরিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধ, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, জলাশয়-পাহাড়-প্রকৃতি রক্ষা, বৃক্ষ সংরক্ষণ, পরিবেশ আইন প্রয়োগ এবং জনগণের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি।
এ উদ্যোগ একদিকে পরিবেশ রক্ষা ও নগর-গ্রামের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের জন্য ‘Green Jobs’ সৃষ্টি করবে। ILO-এর মতে, পরিবেশবান্ধব ও শোভন কর্মসংস্থান পরিবেশ সুরক্ষা, সম্পদ-দক্ষতা ও টেকসই অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত; বাংলাদেশেও এ খাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
International Labour Organization +1
পরিবেশবান্ধব শিল্প, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ কৃষি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী-সাগর রক্ষা ও Green Economy–Blue Economy-কে সমন্বিত করে নতুন বিনিয়োগ, পর্যটন, শিল্পায়ন ও রাজস্বের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। UNEP-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নও দেখায় যে প্রকৃতি, জলবায়ু ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনকল্যাণ—দুই ক্ষেত্রেই বড় সুফল আনতে পারে।
UNEP – UN Environment Programme +1
সরকারের প্রতি বিশেষ প্রস্তাব:
১. বিশেষায়িত Environmental Police গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই।
২. পরিবেশ আইন প্রয়োগে ডিজিটাল মনিটরিং ও দ্রুত অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু।
৩. তরুণদের জন্য পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও green technology-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ।
৪. স্কুল-কলেজে বাধ্যতামূলক পরিবেশ শিক্ষা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
৫. বৃক্ষরোপণ, জলাশয় ও পাহাড় সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা।
৬. পরিবেশবান্ধব শিল্প ও recycling sector-এ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে প্রণোদনা দেওয়া।
পরিষ্কার পরিবেশ শুধু সৌন্দর্য নয়—এটি সুস্থ মানুষ, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং একটি শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি। এখন প্রয়োজন পরিবেশ রক্ষাকে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি নতুন কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন কৌশলে পরিণত করা।

তথ্যসূত্র :- বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের বর্তমান আইন ও বিধিমালার তালিকা ILO-এর Bangladesh Green Jobs ও Employment–Environment–Climate বিষয়ক গবেষণা, UNEP-এর Green Economy ও pollution-free economy বিষয়ক নীতিমালা !
Department of Environment +1
International Labour Organization +1
UNEP – UN Environment Programme +1

মো. নাজমুল ইসলাম চৌধুরী
লেখক ও পরিচালক সিসিআরএসবিডি

পাঠক সংখ্যা৫৩
Share
f x w t p

আগের খবর

কালের আঁধারে