বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু পাহাড়, বন, নদী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জনপদ নয়; ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা এই ভূখণ্ড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং কৌশলগত যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে শান্তি, উন্নয়ন ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়? একই সঙ্গে বিদেশি প্রভাব, সশস্ত্র তৎপরতা কিংবা কোনো গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে উঠলে রাষ্ট্র কীভাবে তার মোকাবিলা করবে?
ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তিন পার্বত্য জেলা:
রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন জেলা বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য এবং মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক নৈকট্য এ অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা, মিয়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের বন্দর, সড়ক, নৌপথ ও সীমান্তবর্তী অবকাঠামো প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো দেশের কৌশলগত আগ্রহ থাকলেই তাকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখল কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত দেওয়ার পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। বরং এসব স্বার্থের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় নীতি।
ভারত-চীন প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় রয়েছে বলে চলমান-চিত্র। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্যিক ভারসাম্য এবং ট্রানজিট সুবিধার ন্যায্যতা নিয়ে বাংলাদেশের জনপরিসরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার, সড়ক ও রেল যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে চায়। এসব ব্যবস্থায় বাংলাদেশেরও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুবিধা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তার মূল্যায়ন হতে হবে পরিবহন ব্যয়, রাজস্ব আয়, অবকাঠামোগত চাপ, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।
অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ ও ঋণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঋণের শর্ত, প্রকল্পের ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় এবং কৌশলগত নির্ভরতার সম্ভাবনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ভারত ও চীনের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে কোনো এক পক্ষের অনুসারী হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র তৎপরতা ও শান্তির প্রশ্ন:
পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ১৯৭০-এর দশকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও তার সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল সংঘাতের অবসান, স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।
কিন্তু চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক ও অসন্তোষ এখনো রয়েছে। ভূমিবিরোধ, আঞ্চলিক পরিষদের কার্যকারিতা, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব—এসব বিষয়ে সমাধানের প্রয়োজন রয়ে গেছে।
পরবর্তী সময়ে ইউপিডিএফসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের আবির্ভাব এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অপরাধের সঙ্গে যে ব্যক্তি বা সংগঠন জড়িত, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তবে কোনো একটি জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে সন্ত্রাসী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমাধান নয়, তেমনি সন্দেহীনতার বাহিরে না রেখে নজরদারিতে রাখতে হবে। অপরাধের দায় ব্যক্তির ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জাতিগত পরিচয়ের নয়। পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক সংস্থার ভূমিকা: সহযোগিতা, নাকি প্রভাব বিস্তার?
পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি, শিশুসুরক্ষা ও মানবিক উন্নয়নে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা কাজ করে। দুর্গম অঞ্চলে সরকারি সেবার ঘাটতি পূরণে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের স্বচ্ছতা, অর্থের ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগণের ওপর তার প্রভাব সম্পর্কে জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন।
ইউনিসেফ শিশুদের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা। অন্যদিকে, ইউএনডিপির কাজের ক্ষেত্র উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। এ ধরনের সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা নির্দিষ্ট প্রকল্প, অর্থায়ন, চুক্তি ও বাস্তব কর্মকাণ্ডের তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক তদন্ত ও যাচাই করা উচিত।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থায়ন করছে, অস্ত্র সরবরাহ করছে কিংবা ধর্মান্তরকরণকে রাজনৈতিক প্রকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন গুরুতর অভিযোগের নির্ভরযোগ্য তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কোন কোন এলাকায় বিদেশি সংস্থার গাড়ি চলাচল, উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার নামে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছে, কিংবা একক জনগোষ্ঠীকে প্রমোট ও স্বাবলম্বীতা নামে অর্থনৈতিক যোগানদাতা হিসেবে ও কৌশলে উপাসনালয়ের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবিষয়ে সরকারের নজরদারিতে আনা প্রয়োজন।
তবে বিদেশি সংস্থার কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বৈষম্য, অর্থের অপব্যবহার, ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহারের অভিযোগ উঠলে সরকারকে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি অর্থায়নের উৎস, প্রকল্পের উপকারভোগী এবং ব্যয়ের হিসাব যথাযথ তদারকির আওতায় রাখা প্রয়োজন।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো সংস্থার পরিচয়ের কারণে অযৌক্তিক সন্দেহ সৃষ্টি না করে সবার জন্য আইনসম্মত ও স্বচ্ছ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক নীতি:
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতি, বিদেশি প্রভাব কিংবা কৌশলগত প্রতিযোগিতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আবার পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করাও দায়িত্বশীল বিশ্লেষণের পথ নয় তেমনি আবার আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যক্রম বিষয়ে সরকার সঠিকভাবে তদারকি করতে হবে।
বাংলাদেশের করণীয় হতে পারে কয়েকটি সুস্পষ্ট পদক্ষেপ। প্রথমত, সীমান্ত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়িয়ে অস্ত্র চোরাচালান, মাদক পাচার এবং সশস্ত্র তৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
চতুর্থত, ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, স্থানীয় জনগণের সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় বৈষম্যহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে কেবল নিরাপত্তা সমস্যার অংশ হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের নাগরিক এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
উপসংহার:
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা, সম্পদ, পরিবেশ ও জনগণের অধিকার রক্ষা জাতীয় দায়িত্ব। ভারত ও চীনের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, মিয়ানমারের অস্থিতিশীলতা কিংবা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা—সবকিছু মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষার নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ, জাতিগত বিদ্বেষ কিংবা প্রমাণহীন ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে দিলে প্রকৃত সমস্যাগুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, নিরপেক্ষ তদন্ত, শক্তিশালী সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ননীতি।
পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত দায়িত্ব। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সব নাগরিকের সমান অধিকারের ভিত্তিতে।
লেখক :সাংবাদিক ও কলামিস্ট।