কর্ম-ই যেনো ভালোমন্দের বিচার করে জনতা।ঠিক তেমনি প্রমাণ করে দিলো সদ্য বিদায়ী তরুণ জেলা পরিষদের সদস্য হাবিব আজম। তার অক্লান্ত পরিশ্রম আর মেধা-মননে ও সহজ সরল ভাবে মিশে গেছে প্রতিটি মানুষের ভালোবাসায়।
দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস ৯ দিন (মোট ৬৪৯ দিন) সফলতার সাথে দায়িত্ব পালনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের (RHDC) সদস্য মো. হাবীব আজম। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে এই সম্মানজনক বিদায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সম্মেলন কক্ষ থেকে নেমে এলে চত্বরে অপেক্ষমাণ শত শত ছাত্র-যুবক, নারী-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাবীব আজমকে করতালির মাধ্যমে শুভকামনা জানান ও স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন। উপস্থিত শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে ফুলের মালায় ভূষিত করেন এবং এক প্রীতি শোভাযাত্রার মাধ্যমে সশ্রদ্ধভাবে নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেন।
সংবর্ধনায় আসা সর্বস্তরের জনগণ জানান, জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ার অনেক আগে থেকেই হাবীব আজম বিগত এক যুগ ধরে রাঙামাটির সামাজিক ও মানবিক নানা কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।
পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা বন্যার মতো যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গম সীমানা মাড়িয়ে দুস্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে প্রথম দিকেই খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের চোখে হাবীব আজমের জনকল্যাণমুখী অর্জন নিয়ে তারা বলেন, তিনি অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ, মুমূর্ষু ও অসহায় মানুষের চিকিৎসায় নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান, তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং স্থানীয় পাঠাগারে বই বিতরণের মাধ্যমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এছাড়াও পাহাড়ি-বাঙালি অধ্যুষিত রাঙামাটিতে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখে গেছেন।
সংবর্ধনায় আসা শুভাকাঙ্ক্ষীরা আরো বলেন, প্রশাসনিক পদ-পদবির মেয়াদ শেষ হলেও হাবীব আজমের এই নিঃস্বার্থ জনসেবা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ আর মানুষের হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে ভাস্বর থাকবে। হাবীব আজমের বিদায় তাই কেবল একটি দায়িত্বের সমাপ্তি নয়, বরং জনকল্যাণের এক মানবিক অধ্যায়ের নতুন পর্বে প্রবেশ। জনগণের কল্যাণে হাবীব আজম আগামীতে পৌরসভা নির্বাচন অথবা প্রয়োজনে ২৯৯ নং আসনে এমপি নির্বাচনও করতে পারেন বলে ঘোষণা দেন উপস্থিত ছাত্র-জনতারা।