পৌরসভার মানচিত্রে অবস্থান হলেও চারদিকে থৈ থৈ পানি—যেন শহরের বুকেই এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙামাটির ৭নং ওয়ার্ডের সৈয়দ নগর। শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে থাকা সত্ত্বেও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এই এলাকার চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। যাতায়াত ব্যবস্থার চরম দুর্ভোগের কারণে এই দুর্গম এলাকার খোঁজখবর কেউ নেন না বললেই চলে। তবে সেই চেনা দেয়াল ভেঙে ভালোবাসার অনন্য নজির স্থাপন করলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম।

​মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) সকালে পানিবন্দী ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক  মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের খাদ্যশস্য নিয়ে স্বশরীরে সেখানে হাজির হন এই জনপ্রতিনিধি।
​সুবিধাভোগীদের এক জায়গায় ডেকে এনে ত্রাণ বিতরণের প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়ে এক অনন্য মানবিকতা দেখান হাবীব আজম। যাতায়াতের সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তিনি নিজেই নৌকায় চড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্ধশতাধিক পানিবন্দী পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। সৈয়দ নগর ও আশেপাশের আরো সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন তিনি।
​স্থানীয়দের চোখে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা:
উপায়হীন ও অবহেলিত মানুষগুলোর কাছে হাবীব আজমের এই সশরীরে উপস্থিত হওয়া এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া এক বিশাল স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দুর্যোগের এই দিনে এমন আন্তরিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।
​শহরের ভেতরে থেকেও যারা ছিলেন আড়ালে ও অবহেলায়, তাঁদের দ্বারে পৌঁছানো হাবীব আজমের এই ব্যতিক্রমী দায়িত্ববোধ ও সাধারণ মানুষের প্রতি মহানুভবতা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
​সৈয়দ নগরবাসীর মতে, প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে সাধারণ ও অসহায় মানুষের পাশে এমন আন্তরিকভাবে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত জননেতার পরিচয়। হাবীব আজমের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনপদে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পাঠক সংখ্যা০