১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

 অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
নগরের রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি ব্লকে দেয়াল ধসে শফিকুল রহমান (৩০) নামের এক যুবককের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকায়।
নগরে অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার একসঙ্গে হওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা দিতে ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

ছবি সংগৃহিত

বিস্তারিত পড়ুন
গত রবিবার ভোররাত থেকে শুরু হয় বৃষ্টি। থেমে থেমে চলছে দু’দিন ধরে মুশলধারা বৃষ্টি। মঙ্গলবার (৭জুলাই) সকাল থেকেই বৃষ্টির গতি বেরে যায়।
অবিরাম বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রাতঃকালীন শিফটের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে যেতে হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক।
সোমবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

একই সময়ে জোয়ারের পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন খাল-নালা উপচে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়ে। মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ ও কাতালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।

ছবি সংগৃহিত

অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে।জলাবদ্ধতার কারণে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় কর্মস্থলমুখী মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে বৃষ্টির মধ্যেই হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।
এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সরকারি বিদ্যালয়ের মর্নিং শিফটের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে যেতে হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও সরকারি বিদ্যালয়ের সকালের পরীক্ষা বিষয়ে শুরুতে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
বাকলিয়া এলাকার এক অভিভাবক বলেন, “চারদিকে পানি আর বৃষ্টি। তারপরও সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। আগে সিদ্ধান্ত জানানো হলে এমন কষ্ট করতে হতো না।
জলাবদ্ধতা ও যানবাহনের সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভিজে অবস্থায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন অভিভাবকেরা।
পরে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর দিবা শাখার নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে সকালবেলার পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তখনও কাটেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নগরবাসীকে একই ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। খাল-নালা সংকুচিত হওয়া, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা এবং অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নগরে অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, কর্ণফুলীর জোয়ার একসঙ্গে হওয়ায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা দিতে ১০১ সদস্যের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
নগরের নিম্নাঞ্চল পরিদর্শন শেষে টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ ঘোষণা দেন মেয়র।
এ কমিটিতে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, আমরা রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করেছি।
যেকোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করবে।
এ সময় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্রের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
নগরের রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি ব্লকে দেয়াল ধসে শফিকুল রহমান (৩০) নামের এক যুবককের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকায়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল ইসলাম,  একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।
আরও চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে
টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে জল জটের সৃষ্টি হয়েছে। তলিয়ে গেছে বাসা বাড়ি। পানি ঢুকেছে হাসপাতাল থেকে শুরু করে রেললাইনেও। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অতিরিক্ত পানি প্রবাহের দিকে জান আলী হাট স্টেশনে দুইটি ট্রেন আটকা পড়ে।
জানা গেছে, ষোলশহর থেকে জান আলী হাট রুটে অতিরিক্ত পানির কারণে রেললাইন তলিয়ে যায়।
যার কারণে ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন আটকা পড়ে। এছাড়া রেললাইনে গাছ ভেঙে পড়ার কারণে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনটিও পথিমধ্যে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে আটকে দেয়া হয়।
প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা বলেন সকাল সাড়ে দশটার দিকে কক্সবাজার থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। রেললাইনে অতিরিক্ত পানি উঠায় ট্রেনটি সামনের দিকে এগুতে পারছে না। দীর্ঘক্ষণ এখানে আটকে আছি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুজাফর মজুমদার বলেন, বৃষ্টিতে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ার কারণে জান আলী হাট স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে। এখন পানি কমতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

পাঠক সংখ্যা০