“ক্লিন সিটি, গ্রীন সিটি, নিরাপদ সিটি” গড়ার ১২ মাসের মহাপরিকল্পনা যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি মাস্টারপ্ল্যান ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ চট্টগ্রাম বন্দরনগরীকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নিরাপদ মেগাসিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত নগর সংস্কার উদ্যোগ। এতে ট্রাফিক মোড় ব্যবস্থাপনা, ৬টি অঞ্চলে ভাগ করে অখণ্ড তদারকি, ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, পর্যায়ক্রমিক জরিমানা ব্যবস্থা, পরিকল্পিত হকার ব্যবস্থাপনা, ওয়ার্ডভিত্তিক কাঁচা বাজার এবং সম্পূর্ণ লাভ-লোকসানের আর্থিক বিশ্লেষণ বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রস্তাবক ও সার্বিক নির্দেশনায়:
নির্বাহী সারসংক্ষেপ ও রূপকল্প (Executive Summary & Vision)
১.১ পটভূমি ও বর্তমান চ্যালেজসমূহ:
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্য নগরী ও প্রধান সমুদ্র বন্দর সমৃদ্ধ প্রবেশদ্বার। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও অনিয়ন্ত্রিত যানজট, ফুটপাত ও অবৈধ সড়ক দখল, যত্রতত্র ভাসমান হকার, অ-অনুমোদিত পার্কিং এবং পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সঠিক তদারকি, সমন্বিত জনবল এবং আধুনিক আইনি প্রযুক্তির প্রয়োগের অভাবে নগর সমস্যাসমূহ দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।
১.২ রূপকল্প ২০২৬ (Vision Clean-Green-Safe City): আগামী ১২ মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকাকে একটি গতিশীল, সুশৃঙ্খল, সবুজ এবং শতভাগ নিরাপদ নগরে রূপান্তর করা সম্ভব। প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দৈনন্দিন ট্রাফিক জ্যাম ৭০% কমিয়ে আনা, অবৈধ সড়ক দখল স্থায়ীভাবে নির্মূল করা এবং সমন্বিত বাজার কাঠামোর মাধ্যমে চসিক-এর নিজস্ব রাজস্ব আয়ে বিশাল উদ্বৃত্ত সৃষ্টি করা।
মহাপরিকল্পনার ৪টি মূল স্তম্ভ:
১. প্রকৌশলগত ট্রাফিক সংস্কার: প্রতিটি ট্রাফিক মোড়ে ১০০ মিটার বাম পাশে-ডিভাইডার ও গতিশীল লেফট-টার্ন লেন।
২. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: চসিক-কে ৬টি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কোম্পানিতে বিভক্তকরণ ও প্রতিটিতে ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন।
৩. প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি ও জরিমানা: ভ্রাম্যমাণ লাইভ ক্যামেরা সার্ভেইল্যান্স ও ক্রমান্বয়ে বর্ধিত জরিমানা ব্যবস্থা।
৪. সুসংগঠিত অর্থনৈতিক পুনর্বাসন: সুনির্দিষ্ট ভাসমান হকার বাজার নীতি ও ওয়ার্ডভিত্তিক ২০৫টি আধুনিক কাঁচা বাজার।
পার্কিং এরিয়া জোন:
১.৩ ১২ মাসের সাফল্য নির্দেশক (Key Performance Indicators)
বিষয়, বর্তমান অবস্থা
১২ মাস পর লক্ষ্যমাত্রা
মোড়ের গড় অপেক্ষা সময়
১৫ – ২৫ মিনিট
৩- ৫ মিনিট ফুটপাত দখল অবস্থা
৬০%-৭০% অবৈধ দখলপ্রাপ্ত
০% (শতভাগ দখলমুক্ত)
দৈনন্দিন রাজস্ব আয় (বাজার ও জরিমানা)
অসংগঠিত ও স্বল্প
দৈনিক গড়ে ১০-১৫ লক্ষ টাকা উদ্বৃত্ত
নাগরিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা index
নিম্ন-মধ্যম
উচ্চ (স্মার্ট ও নিরাপদ মেগাসিটি)
অধ্যায় ১: ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক মোড় পুনঃনকশাকরণ:
২.১ ১০০ মিটার বাম-ডিভাইডার ও ডেডিকেটেড বাম লেন ব্যবস্থা
চট্টগ্রাম নগরের যানজটের প্রধান কারণ হলো মোড়গুলোতে অপ্রয়োজনীয় গাড়ির জটলা। যেকোনো ট্রাফিক মোড়ে বামে যাওয়ার গাড়ির সংখ্যা মোট ট্রাফিকের প্রায় ৩০% যদি বামে মোড় নেওয়া যানবাহনগুলোকে সোজা বা ডানে যাওয়ার গাড়ির সারি থেকে আলাদা করে দেওয়া যায়, তবে সিগন্যালে অপেক্ষমাণ গাড়ির চাপ মুহূর্তেই ৭০%-এ নেমে আসবে।
প্রস্তাবিত ডিভাইডার নকশা:
প্রতিটি প্রধান ট্রাফিক মোড়ের ১০০ মিটার পূর্বে শক্ত কংক্রিট বা পোর্টেবল ডিভাইডার স্থাপন করতে হবে।
ফুটপাত সংলগ্ন চরম বাম দিকের লেনটি শুধুমাত্র বামে মোড় নেওয়া গাড়ির জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এই লেনে প্রবেশকারী গাড়ি সিগন্যাল ছাড়াই ফ্রি-লেফট টার্ন (Free Left Turn) নিতে পারবে।
সিগন্যালের আগে নির্দিষ্ট জায়গায় প্যাসেঞ্জার নামাতে পারবে। ডিবেটার থেকে বাহির হওয়ার পর ৩টি বাস ৩টি মোটরসাইকেল ৩টি রিক্সা ০৩টি ট্যাক্সি ৩টি টেম্পু অতিরিক্ত গাড়ি সামনের দিকে চলে যাবে তিনটি গাড়ির বেশি রাখার সুযোগ থাকবে না।
২.২ চার-সিগন্যাল নিয়ম ও লেন শৃঙ্খলা।
বাম পাশের ৩০% গাড়ি বাধাহীনভাবে চলে যাওয়ার পর মূল সড়কে থাকা ৭০% গাড়ি নিচের নিয়মে পরিচালিত হবে:
সোজা গমনকারী গাড়ি: প্রধান ৪-সিগন্যালে নিজেদের লাইনে অপেক্ষা করবে এবং সবুজ আলো জ্বললে সোজা অতিক্রম করবে।ডানে গমনকারী গাড়ি: ডান দিকের লাইট জ্বালিয়ে মোড় ঘুরবে।লাইনের মধ্যে শুধু দুটি লাইন থাকবে।বামে গমনকারী গাড়ি: ১০০ মিটার আগে থেকেই বাম লেনে ঢুকে সরাসরি মোড় অতিক্রম করবে, কোনো সিগন্যালে আটকাবে না।
২.৩ ১০০ মিটার নো-পার্কিং জোন ঘোষণা
প্রতিটি ট্রাফিক মোড়ের চারপাশের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সকল প্রকার পার্কিং (প্যাসেঞ্জার ড্রপ-অফ বা মালামাল উঠানো-নামানোসহ) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কঠোরভাবে ‘নো-পার্কিং জোন’ ঘোষণা করতে হবে।
অঞ্চল/মোড় প্রকার ডিভাইডার দৈর্ঘ্য
নো-পার্কিং জোন সীমা প্রত্যাশিত যানজট হ্রাস
মেজর ইন্টারসেকশন (যেমন: জিইসি, ২ নং গেট)
১০০ মিটার ১০০ মিটার চারিদিকে৬৫%-৭৫%
মাইনর ইন্টারসেকশন (যেমন: বাদামতলী, আগ্রাবাদ)৭৫-১০০ মিটার ১০০ মিটার চারিদিকে
৭০%-৮০%
অধ্যায় ২: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬-অঞ্চল প্রশাসনিক পুনর্গঠন:
৩.১ চসিক-কে ৬টি প্রশাসনিক কোম্পানিতে বিভাজন
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডকে প্রশাসনিক ও তদারকি সুবিধার জন্য ৬টি অঞ্চলে ভাগ করে ৬টি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক পরিচালনা ইউনিট বা ‘কোম্পানি/জোন’ গঠন করতে হবে। প্রতিটি কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট এলাকার সার্বিক ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, নো-পার্কিং বাস্তবায়ন ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকবে।
৩.২ অঞ্চলভিত্তিক ওয়ার্ড বণ্টন ব্যবস্থা
কোম্পানি / অঞ্চল
অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডসমূহ (৪১টি ওয়ার্ড)
প্রধান কাভারেজ এলাকা
কোম্পানি ১ (অঞ্চল-১)
ওয়ার্ড ১ থেকে ৭ (৭টি ওয়ার্ড)
পাহাড়তলী, আকবর শাহ, জালালাবাদ, বায়েজিদ
কোম্পানি ২ (অঞ্চল-২)
ওয়ার্ড ৮ থেকে ১৪ (৭টি ওয়ার্ড)
ষোলশহর, শোলকবহর, পাঁচলাইশ, চন্দগাঁও
কোম্পানি ৩ (অঞ্চল-৩)
ওয়ার্ড ১৫ থেকে ২১ (৭টি ওয়ার্ড)
জিইসি, লালখান বাজার, দেওয়ানহাট, ডবলমুরিং
কোম্পানি ৪ (অঞ্চল-৪)
ওয়ার্ড ২২ থেকে ২৭ (৬টি ওয়ার্ড)
আগ্রাবাদ, মাদারবাড়ি, সদরঘাট, কোতোয়ালী
কোম্পানি ৫ (অঞ্চল-৫)
ওয়ার্ড ২৮ থেকে ৩৪ (৭টি ওয়ার্ড)
পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গীবাজার, বকশিরহাট, চকবাজার
কোম্পানি ৬ (অঞ্চল-৬)
ওয়ার্ড ৩৫ থেকে ৪১ (৭টি ওয়ার্ড)
পতেঙ্গা, হালিশহর, বন্দর, ইপিজেড এলাকা
৩.৩ জনবল, যানবাহন ও কার্যালয় কাঠামো
প্রতিটি কোম্পানির সুনির্দিষ্ট অবকাঠামো ও জনবল থাকবে যাতে তারা স্বাধীনভাবে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে:
জনবল: প্রতিটি কোম্পানিতে ৬০ জন মাঠপর্যায়ের দক্ষ কর্মী/স্টাফ থাকবে (৬ কোম্পানি ৬০ = ৩৬০ জন)
প্রতিটি কোম্পানির জন্য ৫০ জন করে আনসার / ভিডিপির সদস্য নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে ।
প্রতিটি গ্রুপকে তিন মাস পর পর পরিবর্তন করা যেতে পারে।প্রতিটি টিমের সাথে ডিসি ট্রাফিকের ১০ জন পুলিশ
সদস্য থাকবে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: প্রতিটি কোম্পানিতে ১ জন করে মোট ৬ জন সার্বক্ষণিক বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।
আলাদা অফিস: ৬টি অঞ্চলের জন্য নিজস্ব সুসজ্জিত ৬টি স্বতন্ত্র আঞ্চলিক কার্যালয় থাকবে।
যানবাহন: প্রতিটি কোম্পানির জন্য ১০টি করে টহল ও ক্র্যাশ ভেহিক্যাল থাকবে
(৬ কোম্পানি ১০ = মোট ৬০টি গাড়ি)
অধ্যায় ৩: উচ্ছেদ, ডিজিটাল ডাটাবেজ ও লাইভ ক্যামেরা সার্ভেইল্যান্স:
৪.১ প্রাথমিক উচ্ছেদ অভিযান ও ডিজিটাল জিআইএস ডাটাবেজ
প্রতিটি কোম্পানি তাদের বরাদ্দকৃত ৬/৭টি ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে যৌথ অভিযান চালিয়ে রাস্তার উপর তৈরি সকল অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান এবং অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করবে।
জিআইএস ডিজিটাল ডাটাবেজ: উচ্ছেদের পরপরই প্রতিটি ফুটপাত, নো-পার্কিং জোন ও সরকারি জায়গার জিপিএস লোকেশনসহ স্থানসমূহের ডিজিটাল চিত্র ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে পরবর্তীতে নতুন করে দখল চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা সহজ হবে।
৪.২ ৭ম দিন পরবর্তী মোবাইল ক্যামেরা ট্র্যাকিং দল
প্রথমবার উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করার ঠিক ৭ দিন পর প্রতিটি কোম্পানির অধীনে ১০ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ‘ভ্রাম্যমাণ লাইভ ক্যামেরা সার্ভেইল্যান্স টিমে’ রূপান্তর হবে।
লাইভ বডি-ক্যামেরা ও হাই-ডেফিনিশন হ্যান্ডহেল্ড ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে নির্ধারিত এলাকা নিয়মিত টহল দেবে।
যেকোনো পুনঃদখল, অবৈধ পার্কিং বা রাস্তার উপর দোকান বসালে রিয়েল-টাইম ভিডিও ও ছবি তুলে কেন্দ্রীয় সার্ভার ও ম্যাজিস্ট্রেট পোর্টালে পাঠাবে।
ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল মামলা (E-Citation) দায়ের করা হবে।
৪.৩ আসামিকে তাৎক্ষণিক অফিসে তলব ও স্পট ব্যবস্থা ভিডিও ফুটেজে অবৈধ দখলের প্রমাণ পাওয়ার পরপরই এনফোর্সমেন্ট স্কোয়াডের টিম উক্ত স্থানে উপস্থিত হয়ে অবৈধ স্থাপনা বা মালামাল জব্দ করবে এবং দখলদারকে সশরীরে আঞ্চলিক অফিসে নিয়ে যাবে।
কার্যক্রম
ধাপ ১.ভিডিও ফুটেজ গ্রহণ ও ডিজিটাল মামলা
১০ জন ভ্রাম্যমাণ ক্যামেরা টিম
তাৎক্ষণিক (রিয়েল-টাইম)
দায়িত্বপ্রাপ্ত দল
ধাপ ২.মালামাল আটক ও দখলদারকে অফিসে আনয়ন, তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম
কোম্পানি রেসপন্স টিম (৫০ জন পুলিশ সদস্য ১০ জন মোট ৬০ জন)
ধাপ ৩.সময়সীমা ৩০ মিনিটের মধ্যে
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচার ও জামিন প্রসেস
আঞ্চলিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
একই দিনে সময়সীমা ৩০ মিনিটের মধ্যে
ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অধ্যায় ৪: পর্যায়ক্রমিক জামিন/জরিমানা ব্যবস্থা ও আইনি কাঠামো
৫.১ গাণিতিক হারে পর্যায়ক্রমিক জামিন ও জরিমানা ফি
অবৈধ দখল ও বেআইনি পার্কিং স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে জামিন ও জরিমানার পরিমাণ পর্যায়ক্রমিক বাড়ানো হবে। এতে অপরাধী বারবার অন্যায় করার সাহস পাবে না।
অপরাধের ক্রম
জামিন / জরিমানা ফি (BDT)
শাস্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা
১ম বার অপরাধ ৳ ৫০০
সতর্কীকরণ, মুচলেকা প্রদান ও এনআইডি ডাটাবেজে এন্ট্রি
২য় বার অপরাধ ৳ ১,০০০
মালামাল ৩ দিনের জন্য বাজেয়াপ্ত ও অর্থদণ্ড
৩য় বার অপরাধ ৳ ২,০০০
মালামাল ৭ দিনের জন্য বাজেয়াপ্ত ও কঠোর মুচলেকা ৪র্থ বার অপরাধ ৳ ৪,০০০
অবৈধ মালামাল ও যানবাহন স্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্তকরণ
পরবর্তী প্রতিবার দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি (৮,০০০+)
স্থানীয় সরকার আইনে নিয়মিত দেওয়ানি/ফৌজদারি মামলা
৫.২ বায়োমেট্রিক ও এনআইডি ডাটাবেজ ট্র্যাকিং
আঞ্চলিক অফিসে আনীত অপরাধীর এনআইডি (NID) নম্বর ও বায়োমেট্রিক আঙুলের ছাপ চসিক সেন্ট্রাল ডাটাবেজে নিবন্ধিত হবে। ফলে ব্যক্তি স্থান বা ওয়ার্ড পরিবর্তন করলেও তার পূর্ববর্তী অপরাধের ইতিহাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে ভেসে উঠবে এবং সেই অনুযায়ী বর্ধিত হারে জরিমানা ধার্য হবে।
৫.৩ আইনি ভিত্তি ও ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতা
এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ এবং মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর ধারা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। প্রতিটি কোম্পানির সাথে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে বা অফিসে তাৎক্ষণিক বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
শৃঙ্খলার প্রভাব: জরিমানা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৪র্থ বারের পর কোনো দখলদার পুনরায় ফুটপাত দখল বা বেআইনি পার্কিং করার অর্থনৈতিক ঝুঁকি নেবে না।
অধ্যায় ৫: ভাসমান হকার ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনা
৬.১ স্কুল মাঠ কেন্দ্রিক অস্থায়ী সপ্তাহান্তিক বাজার নীতি ,ভাসমান হকারদের জীবিকা নির্বাহের মানবিক দিক বিবেচনা করে শহরকে ফুটপাতমুক্ত রাখতে এক অভিনব ও সুশৃঙ্খল মডেল গ্রহণ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠকে সপ্তাহের ছুটির দিনে ব্যবহার করা হবে।
সময়সীমা: সপ্তাহে মাত্র ১.৫ দিন (বৃহস্পতিবার অর্ধেক দিন শুক্রবার পুরো দিন)
স্থান: প্রতিটি ওয়ার্ডে অবস্থিত সরকারি/বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ।
অংশগ্রহণ: নিবন্ধিত ভাসমান হকাররা সুনির্দিষ্ট স্লটে স্টল বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে।
৬.২ হকারদের ওপর কঠোর পরিচ্ছন্নতার দায়বদ্ধতা
পরিচ্ছন্নতা চুক্তি শর্তাবলী:
১. ১.৫ দিনের বাজার সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক ২ ঘণ্টার মধ্যে মাঠ সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
২. প্রতিটি স্টলে নিজস্ব বর্জ্য ফেলার বিন (Waste Bin) রাখা বাধ্যতামূলক।
৩. মাঠ নোংরা রেখে গেলে উক্ত হকার দলের নিবন্ধন বাতিল এবং পরবর্তী ৪ সপ্তাহ বাজারে বসা নিষিদ্ধ করা হবে।
৬.৩ মূল সড়ক ও ফুটপাতে শূন্য-সহনশীলতা (Zero-Tolerance)
স্কুল মাঠের নির্ধারিত ১.৫ দিনের সাময়িক বাজার ব্যতীত চট্টগ্রাম নগরের কোনো ব্যস্ত সড়ক, ফুটপাত, ওভারব্রিজ বা মোড়ে ভাসমান হকারদের কোনো প্রকার পসরা সাজাতে দেওয়া হবে না।
নীতিমালা
প্রধান সড়ক ও ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারমুক্ত জোন
তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ ও মালামাল বাজেয়াপ্ত
ব্যত্যয়ের ফলাফল
স্কুল মাঠ বাজার (১.৫ দিন)
অনুমোদিত ও পরিচ্ছন্নতা সাপেক্ষে
নিয়মতান্ত্রিক ফি ও বর্জ্য অপসারণ
অধ্যায় ৬: কাঁচা বাজার সংস্কার ও রাজস্ব আদায় মডেল
৭.১ ওয়ার্ডভিত্তিক ৫টি করে কাঁচা বাজার প্রতিষ্ঠা
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত ৫টি করে আধুনিক কাঁচা বাজার থাকবে।
বাজারের পাশে একটি করে পার্কিং স্থাপন করা হবে।
মোট অনুমোদিত কাঁচা বাজার = ৪১টি ওয়ার্ড ৫টি বাজার = ২০৫টি কাঁচা বাজার
৭.২ বাজার অবকাঠামো ও পরিবেশগত মানদণ্ড
এই ২০৫টি বাজারে নিম্নলিখিত সুবিধা ও প্রবিধান কার্যকর করা হবে:
নির্দিষ্ট শেড ও স্টল: প্রতিটি বাজারে সুনির্দিষ্ট ভেন্ডর আইডি সহ সুসংগঠিত স্টল বরাদ্দ।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাজার পরিচালনা কমিটির নিজস্ব উদ্যোগে দৈনন্দিন বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পচনশীল বর্জ্য সংগ্রাহক পাত্র।
ড্রেনেজ ও নিষ্কাশন: স্বাস্থ্যকর ও ধোয়া-মোছার সুবিধাযুক্ত পাকা মেঝের আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা।
৭.৩ ভ্যান গাড়ি ও পথচলতি ভাসমান বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ
নির্ধারিত ২০৫টি কাঁচা বাজারের বাইরে কোনো গলির মুখে, প্রধান সড়কে বা ফুটপাতে ভ্যান গাড়ি বসিয়ে শাকসবজি, ফলমূল বা মাছ-মাংস বিক্রয়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
৭.৪ চসিক-এর রাজস্ব স্থায়িত্ব ও আয় খাত
রাজস্বের উৎস
আদায়ের ভিত্তি বার্ষিক সম্ভাব্য আয় (BDT) ২০৫টি কাঁচা বাজারের দৈনিক ইজারা/টোল
প্রতি স্টল ৫০-১০০ টাকা/দিন ৮ ১৮.৫- ২৫.০ কোটি
হকারদের ট্রাঙ্ক নিবন্ধন ও স্কুল মার্কেট ফি
সাপ্তাহিক টোকেন ফি ৳ ৩.৫-৫.০ কোটি
নো-পার্কিং ও উচ্ছেদ জরিমানা
পর্যায়ক্রমিক জরিমানা প্রবিধান ৮.০- ১২.০ কোটি
অধ্যায় ৭: ১২ মাসের বাস্তবায়ন সময়সূচী ও মাইলফলক
৮.১ চার ধাপে ১২ মাসের মাস্টারপ্ল্যান সময়সূচী
পরিকল্পনাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য ১২ মাসকে চারটি প্রধান ধাপে (Phase 1 to Phase 4) বিভক্ত করা হয়েছে:
ধাপ ও সময়কাল
মূল কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন মাইলফলক
তদারকি কর্তৃপক্ষ
ধাপ ১: প্রস্তুতিমূলক মাস (১-২ মাস)
৬টি প্রশাসনিক কোম্পানির কার্যালয় স্থাপন।
৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও ৩৬০ জন কর্মী প্রশিক্ষণ।
৬০টি টহল গাড়ি সংস্থান ও ওয়ার্ডভিত্তিক জিআইএস সার্ভে।
চসিক মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
ধাপ ২: অবকাঠামো ও উচ্ছেদ (৩-৫ মাস)
সকল প্রধান মোড়ে ১০০ মি. বাম-ডিভাইডার নির্মাণ।
প্রথম পর্বের সমন্বিত ফুটপাত ও অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদ।
১০০ মি. নো-পার্কিং সাইনপোস্ট স্থাপন।
৬ আঞ্চলিক ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রকৌশল বিভাগ
ধাপ ৩: প্রযুক্তি ও এনফোর্সমেন্ট (৬-৮ মাস)
১০ জন ভ্রাম্যমাণ লাইভ ক্যামেরা টিমের টহল শুরু।
এনআইডি নির্ভর পর্যায়ক্রমিক জরিমানা ব্যবস্থা চালু।
স্কুল মাঠে ১.৫ দিনের হকার বাজার চালু।
লাইভ সার্ভেইল্যান্স উইং ও চসিক আইটি
ধাপ ৪: স্থায়িত্ব ও সবুজায়ন (৯- ১২ মাস)
২০৫টি কাঁচা বাজার পূর্ণাঙ্গ চালুকরণ ও রাজস্ব আদায়।
আইল ও ফ্লাইওভারে বৃক্ষরোপণ (গ্রীন সিটি উদ্যোগ)।
চূড়ান্ত অডিট ও সফল ‘ক্লিন-গ্রীন-সেফ সিটি’ ঘোষণা।
সার্বিক মূল্যায়ন কমিটি ও বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন
৮.২ নিয়মিত অডিট ও পর্যালোচনা
প্রতি মাসে প্রতিটি কোম্পানির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হবে। যে কোম্পানি সর্বোচ্চ উচ্ছেদ ও সর্বনিম্ন যানজট বজায় রাখতে পারবে তাদের বিশেষ ইনসেনটিভ প্রদান করা হবে।
অধ্যায় ৮: বিস্তারিত লাভ-লোকসান ও আর্থিক হিসাব
৯.১ দৈনিক ও মাসিক পরিচালন ব্যয় (Expenditure)
প্রস্তাবিত মডেলে প্রদত্ত সুনির্দিষ্ট খরচ অনুযায়ী হিসাব নিচে উপস্থাপন করা হলো:
জনবল খরচ: মোট জনবল ৩৬০ জন (৬ কোম্পানি ৬০ জন)। গড় বেতন ১,৫০০ টাকা/দিন।
দৈনিক ব্যয় = ৩৬০ জন ১,৫০০ টাকা ৳ ৫,৪০,০০০
যানবাহন খরচ: মোট গাড়ি ৬০টি (৬ কোম্পানি ১০টি)। গড় খরচ ১০,০০০ টাকা/দিন প্রতি কোম্পানি (বা দৈনিক মোট ৬০,০০০ টাকা)।
দৈনিক ব্যয় = ৬ কোম্পানি ১০,০০০ টাকা = ৮৬০,০০০
অন্যান্য পরিচালন ব্যয়: ৬টি অফিসের ভাড়া, জ্বালানি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়
দৈনিক গড়ে ৳ ১,০০,০০০
ব্যয়ের খাত
দৈনিক ব্যয় (BDT)মাসিক ব্যয় (৩০ দিন)বার্ষিক ব্যয় (৩৬৫ দিন) কর্মী বেতন (৩৬০ জন কর্মী)
৮ ৫,৪০,০০০
৳ ১,৬২,০০,০০০
৳ ১৯,৭১,০০,০০০
যানবাহন পরিচালন (৬০টি গাড়ি)৳ ৬০,০০০
৳ ১৮,০০,০০০
৳ ২,১৯,০০,০০০
অফিস ভাড়া ও প্রশাসনিক ব্যয় (৬ জোন)
৮ ১,০০,০০০
৳ ৩০,০০,০০০
৳ ৩,৬৫,০০,০00
মোট পরিচালন ব্যয় (Total Expenditure)
৳ ৭,০০,০০০
৳ ২,১০,০০,০০০
৳ ২৫,৫৫,০০,০০০
৯.২ প্রাক্কলিত আয় ও রাজস্ব অনুমান (Revenue)
আয়ের খাত
দৈনিক গড় আয় (BDT)
মাসিক আয় (৩০ দিন)
বার্ষিক আয় (৩৬৫ দিন)
২০৫টি কাঁচা বাজার রাজস্ব (ফি/ইজারা)
৳ ৬,১৫,০০০
৳ ১,৮৪,৫০,০০০
৳ ২২,৪৪,৭৫,০০০ স্কুল হকার মার্কেট ফি (১.৫ দিন/সপ্তাহ)৮ ১,৫০,০০০
৳ ৪৫,০০,০০০
৮ ৫,৪৭,৫০,০০০
নো-পার্কিং ও উচ্ছেদ জরিমানা আদায়
৳ ৫,০০,০০০
৳ ১,৫০,০০,০০০
৳ ১৮,২৫,০০,০০০
মোট রাজস্ব আয় (Total Revenue)৳ ১২,৬৫,০০০
৳ ৩,৭৯,৫০,০০০
৳ ৪৬,১৭,২৫,০০০
৯.৩ আর্থিক চূড়ান্ত লাভ-লোকসানের হিসাব (Net Profit/Loss Statement)
বার্ষিক নিট লাভ (Net Surplus Generation)
৳ ২০,৬২,২৫,০০০ (বিশ কোটি বাষট্টি লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা)
[ বার্ষিক মোট আয় ৳ ৪৬,১৭,২৫,০০০ বার্ষিক মোট ব্যয় ৳ ২৫,৫৫,০০,০০০ =
উদ্বৃত্ত ৳ ২০,৬২,২৫,০০০]
সিদ্ধান্ত: প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে স্বনির্ভর (Self-sustaining)। সিটি কর্পোরেশনের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে বরং প্রতি বছর চসিক-এর তহবিলে ২০ কোটি টাকার বেশি নিট আয় যুক্ত করবে।
অধ্যায় ৯: ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, টেকসই সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
১০.১ পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন সিটি’ কার্যক্রম
চট্টগ্রামের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বৃক্ষরোপণ ত্বরান্বিত করা হবে:
সড়ক আইল ও ডিভাইডার সবুজায়ন:
ট্রাফিক মোড় ও লেনের মধ্যবর্তী ডিভাইডারে শোভাবর্ধনকারী সতেজ গাছপালা ও উল্লম্ব বাগান (Vertical Gardens) তৈরি।
বর্জ্য সংগ্রাহক ইকো-বিন: ২০৫টি কাঁচা বাজার ও হকার মার্কেটে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্যের জন্য ডাবল-বিন প্রযুক্তি।
শিক্ষার্থী পরিবেশবান্ধব ক্লাব: স্কুল মাঠ ব্যবহারে হকারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতা জমার অংশ বিদ্যালয়ের সবুজায়ন তহবিলে জমা।
১০.২ ‘সেফ সিটি’ ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার
নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৬টি জোনের কার্যক্রম নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে:
২৪/৭ সিসিটিভি নজরদারি: ১০টি মোবাইল ক্যামেরা টিমের দৃশ্যধারা কেন্দ্রীয় চসিক কন্ট্রোল রুমে লাইভ স্ট্রিমিং করা হবে।
রাতের আলোকায়ন: উচ্ছেদকৃত সকল ফুটপাত ও মোড়ে এলইডি স্ট্রিট লাইট নিশ্চিত করা
হবে যেন রাতে কোনো অসামাজিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে।
নারী ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল: ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীরা নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচল করতে পারবে, ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ৮০% কমবে।
১০.৩ সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরসন কৌশল
সম্ভাব্য ঝুঁকি / বাধা
দখলদারদের অসন্তোষ ও প্রতিরোধ
ক্যামেরা টিম ও কর্মীদের ওপর চাপ
হকারদের পরিচ্ছন্নতা না মানা
প্রস্তাবিত নিরসন কৌশল
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের শক্ত উপস্থিতি এবং বিকল্প স্কুল মাঠের বাজার প্রদর্শন।
বডি-ক্যামেরায় সরাসরি রেকর্ডিং এবং আইনি সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট বিধান।
জামানত বাজেয়াপ্তকরণ ও পরবর্তী সপ্তাহে বাজারে বসা স্থায়ী নিষিদ্ধকরণ।
অধ্যায় ১০: উপসংহার ও প্রস্তাবনা অনুমোদন সংকল্প
১১.১ সারসংক্ষেপ ও নীতি সুপারিশ
প্রস্তাবিত “ক্লিন সিটি, গ্রীন সিটি, নিরাপদ সিটি” মাস্টারপ্ল্যানটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘদিনের যানজট, অবৈধ দখল ও রাজস্ব ঘাটতির এক যুগান্তকারী ও ব্যবহারিক সমাধান। এই পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো:
১. কোনো অতিরিক্ত সরকারি বাজেট বা ভর্তুকি ছাড়াই এটি শতভাগ স্বনির্ভর।
২. ট্রাফিক ইন্টারসেকশন পুনর্গঠনের মাধ্যমে যানজট তাৎক্ষণিক কমবে।
৩. ম্যাজিস্ট্রেট ও লাইভ ক্যামেরা টিম কঠোর শাসন ও আইনি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করবে।
৪. হকার ও কাঁচা বাজার সুসংগঠিত করার মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাবে এবং কর্পোরেশনের রাজস্ব দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পাবে।
১১.২ আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রস্তাবনা
উক্ত প্রস্তাব বাস্তবায়ন করলে হাজার হাজার মানুষের কর্ম ঘন্টা অপচয় রোধ হবে ।
হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি অপচয় রোধ হবে,সুন্দর পরিবেশের নগরী গড়ে উঠবে।
অতএব, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মানীয় মেয়র, পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন-চট্টগ্রাম নগরের সর্বসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে ও তিলোত্তমা চট্টগ্রাম গড়তে এই ১২ মাসের মাস্টারপ্ল্যানটি অনতিবিলম্বে অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
কৃষক আলহাজ্ব মুহাম্মদ এনামুল হক
মোবাইল নং 01819319727
Email-shukhiagro@gmail.com
www.shukhiagro.com
আহ্বায়ক (চট্টগ্রাম বিভাগ)
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন
চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।