বাংলাদেশের ভেতরে সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় জনগন অস্বস্তিতে আছে। ২৪ এর পর যখন বাংলাদেশের জনগন একটা নতুন বন্দোবস্তের আশায় স্বপ্ন দেখা শুরু করে, তখন বর্তমানের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাগরিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে।

পরাজিত ফ্যাসিস্ট বিতারনের পর ইউনুস সরকার আমাদের বেস্ট অপশন ছিল বলে অধিকাংশ জনগন মনে করে। তাদের সরকারের সমালোচনা করার মতন কিছু পয়েন্ট থাকলেও মোটা দাগে তারা সফল।

বিভিন্ন ইন্ডিকেটর দিয়ে তা বিচারের দায়ভার জনগনের বিশ্লেষণের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

(১) আইন শৃঙ্খলাঃ মনে পড়ে দেশে সব থানার পুলিশ পালিয়ে গেলেও জনগন নিজেরা রাস্তা পাহাড়া দেয়। সেসময় বেশকিছু ডাকাতির ঘটনায় জনগন দুষ্ট লোকদের ধরে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন। ইউনুস সরকার দেশের ভঙ্গুর আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ সময় সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখে।

(২) অর্থনৈতিক অবস্হাঃ পতিত ফ্যাসিস্ট আমলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ ছিল অপ্রতুল ফরেন রিজার্ভ যা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য আমদানী করতে হয়। এছাড়াও এস আলম গং দের ব্যাংকের টাকা খালি করে বিদেশে পাচার নয়া সরকারকে দেশ পরিচালনায় বেকায়দায় ফেলে। তবে ইউনুস সরকার আর্থিকভাবে হাজারো প্রতিকুলতাও ফাস্ট ডিভিশন মার্ক প্রাপ্য বলে মনে করি।

(৩) রাজনৈতিক অবস্হাঃ ইউনুস সরকারের মন্ত্রীসভা যেহেতু অরাজনৈতিক, তাই তাদের হিমসিম খেতে হয় বিভিন্ন বায়না সামলাতে। কিছু হলেই যমুনা ভবন ঘেরাও যেন ডালভাত হয়ে যায়। অথচ ১২ই ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের পর বাংলাদেশের জনগন এরচেয়েও জরুরী বিষয় যেমন তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের উচ্চমূল্য, সার সংকট, চাঁদাবাজিসহ নানাবিধ মৌলিক সমস্যায় সরকারপ্রধান এর বাসভবন ঘেরাও করেনি।

বিএনপি সেসময় ঐক্যমত কমিশনে চাপ দেয় নির্বাচনের এবং মোটামুটি বাধ্য করে ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন। বাংলাদেশের জনগনও নির্বাচন চায়। কিন্তু সংস্কার না করে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের আজ খবর হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ইস্যু সামাল দিতে।

নির্বাচনের ৮ মাস পেরিয়ে কেমন আছে বাংলাদেশ?

(১) ২৪ এর পক্ষে বিপক্ষে ২/৩ টি রাজনৈতিক দল সংসদ ও বাইরে যেসব বক্তব্য দেয়া শুরু করেছে, তাতে তাদের জাতিকে বিভক্ত মতবাদের দায়ে দোষী ভাবতে শুরু দেখে চিন্তিত বাংলাদেশ। অনেকে স্পষ্ট করেই বলছেন, তাহলে আওয়ামী লীগ কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষে মতবাদে দোষ দিলে তো বেইনসাফ করা হবে।

(২) রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু বক্তব্য জাতীয় ঐক্য গঠনে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

(৩) পতিত ফ্যাসিস্টদের রয়েছে অর্থ, প্রশাসনে হাজারো গুপ্ত সমর্থক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে তাদের প্রতিনিধি যারা আদতে অন্য দল করলেও ফ্যাসিস্টদের প্রত্যাবর্তনে সুকৌশলে কাজ করছে, একশ্রেণীর সুশীল ও দালাল সাংঘাতিক দল, বন্ধু প্রতীম দেশ যারা সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের জামাই আদর করছেন ও ওপারে বসে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্হানে ইন্ডাইরেক্টলি সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন বলে বিদগ্ধ একাডেমিশিয়ানরা শংকিত।

(৪) পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি, দেশী বিদেশি গুপ্ত তৎপরতা, পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, গার্মেন্টস সেক্টরকে অস্থিতিশীলকরণ, চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের অসহায়ত্ব যদিও সরকার প্রধানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, সীমান্তে পুশ ইন, ডিসেম্বর নিয়ে হাইপ – এসকল ঘটনা গিঠঠু বা প্যাঁচ লাগিয়ে দিচ্ছে সমাধানের পথে। এরমাঝে রাজনৈতিক বিভাজন যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতন।

(৫) বিরোধী দলগুলোর প্রতি গুত্তদের স্পন্সরের অভিযোগ আসে সরকার প্রধান হতে গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে যা নিয়ে চলছে তর্ক বিতর্ক।

(৬) জামাত এনসিপিকে ফ্যাসিস্ট ও দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের জামাই আদর করা প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ও প্রতিবাদ না করার অভিযোগ তো রয়েছেই। এসব ঘটনায় লাভবান তারাই যারা বাংলাদেশের শত্রু বা যারা চায় না বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অথবা চায় বাংলাদেশে আসুক তাবেদার সরকার।

(৭) বহুদিন পর গনতান্ত্রিক হাইওয়েতে বাংলাদেশ যখন সেকেন্ড গিয়ারে গাড়ি চালিয়ে থার্ড/ফোর্থ গিয়ারে গাড়ি চালিয়ে জনগনের প্রত্যাশা পূরণের পথে, তখন কুচক্রী মহল ব্যাক গিয়ারে গাড়ি লাগিয়ে গিয়ারবক্স ভেঙ্গে ফেলতে মরিয়া। গনতন্ত্র ব্যাহত হলে বাংলাদেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। এক ১/১১ বাংলাদেশকে ১০০ বছর পিছিয়ে নিয়ে গেছে।

এমতাবস্থায় জাতীয় ইস্যুতে বাংলাদেশে ঐক্যের ডাক দিচ্ছে বহু জনগন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো আছে অনৈক্যের ইস্যু নিয়ে বিভাজনের পথে।

আমরা আশাবাদী বাংলাদেশের জনগনের অন্তরের কথা অনুধাবন করবেন সকলেই এবং জাতীয় ইস্যুতে একসুরে কথা বলবো আমরা।
শুভকামনা বাংলাদেশ।

লেখক : মেজর আহমেদ ফেরদৌস (অবঃ)
সচেতন নাগরিক সমাজ বাংলাদেশ

পাঠক সংখ্যা৬