আন্তর্জাতিক রিপোর্ট :
বাহরাইনের শিয়া নেতা আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসেম ইরানের শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে “মহান আলেম, প্রজ্ঞাবান নেতা ও আখিরাতমুখী মানুষ” হিসেবে স্মরণ করেছেন। তিনি তাঁকে মুমিনদের হৃদয় জুড়ে শোক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পৃথিবীর নেতৃত্ব খামেনেয়ীর মতো মূল্যবোধবান ব্যক্তির হাতে থাকলে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইরানের শহীদ নেতার মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহরাইনের শিয়া মুসলমানদের নেতা আয়াতুল্লাহ শেখ ঈসা কাসেম তাঁকে “মহান আলেম, বিশিষ্ট ফকিহ, মহান বিপ্লবী, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, প্রজ্ঞাবান নেতা এবং আখিরাতমুখী মানুষ” হিসেবে স্মরণ করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানায়, শেখ ঈসা কাসেম এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী-এর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মানুষ একত্রিত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা এমন এক ব্যক্তিত্বকে বিদায় জানাতে এসেছেন, যিনি তাঁর সমগ্র জীবন ইসলাম ও মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন।
শেখ ঈসা কাসেম শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে “আল্লাহর এক নেক বান্দা” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, তাঁর প্রয়াণ মুমিনদের হৃদয়কে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে প্রকৃত দিকনির্দেশনা, কল্যাণ, নিরাপত্তা, শান্তি ও মানবিক ভ্রাতৃত্ব তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন নেতৃত্ব এমন ব্যক্তিদের হাতে থাকবে, যাঁরা তাঁর মতো এবং ইসলামের প্রকৃত আদর্শের অনুসারী।বাহরাইনের এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতা বলেন, গায়েবতের যুগেও ইসলাম এমন ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার সক্ষমতা রাখে, যারা আল্লাহর বিধান ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে মানবসমাজকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
তাঁর মতে, শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর নেতৃত্ব ছিল সেই ঐশী আদর্শের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।শেখ ঈসা কাসেম ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনী (রহ.) এবং শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর ভূমিকাও উচ্চ প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই দুই নেতা ইরানি সমাজকে ইসলামের পথে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে শুধু ইরানের জনগণের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য মুক্তির পথ উন্মুক্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ইমাম খোমেনী (রহ.) ও শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের জন্য আল্লাহর কাছে রয়েছে মহান প্রতিদান। কারণ, তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর বান্দাদের হেদায়েতের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।বিবৃতির শেষাংশে শেখ ঈসা কাসেম ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজয়, মর্যাদা ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সত্যের বিজয় সম্পর্কে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে।
সুত্র: পার্সটুডে