দেশের নগরাঞ্চলের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলেন মোঃ আমিনুর রসুল। কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পূওর-কাপ ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কনফারেন্স হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে জনগণের চিকিৎসাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলা হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও মূল স্রোতধারায় নগর স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৯০ সাল থেকে বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘ অ্যাডভোকেসির পর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে এনজিওদের মাধ্যমে এই সেবা চালু হয়। বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন ও ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫টি অংশীদার এনজিওর প্রায় সাড়ে তিন হাজার দক্ষ কর্মী ১৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে নিয়মিত সেবা দিয়ে আসছেন।
বক্তারা জানান, গত এক বছরে এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৫ লাখ প্রসবপূর্ব সেবা, ৩০ হাজার শিশুর নিরাপদ প্রসব, ৪ লাখ পরিবার পরিকল্পনা সেবা, ১২ লাখ শিশু টিকাদান এবং লাল কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটি দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে সেবা পেয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৭০ লাখ কোভিড-১৯ টিকাও দেওয়া হয়েছে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে অংশীদার এনজিওদের প্রকল্প মেয়াদ শেষ হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২২ এপ্রিল ক্যাবিনেট ডিভিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা নির্দেশনা ছাড়াই সেবা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় অংশীদার এনজিওগুলো মানবিক কারণে সাময়িকভাবে সেবা চালিয়ে গেলেও জুলাই মাসের পর আর ব্যয়ভার বহন করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও অর্থায়ন নিশ্চিত না করে হঠাৎ এই সেবা বন্ধ হলে তা জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগে রূপ নিতে পারে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নগরে বসবাস করে, যাদের মধ্যে শিশু, গর্ভবতী নারী ও কিশোরীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। টিকাদান বন্ধ হলে হামসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব, নিরাপদ প্রসব সেবার অভাবে মাতৃমৃত্যু বৃদ্ধি, জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিং বন্ধ হওয়া এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মীর চাকরি হারানোর আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়— বিদ্যমান এনজিওদের সঙ্গে নির্দিষ্ট মেয়াদে অংশীদারিত্ব চুক্তি নবায়ন, দরিদ্রদের জন্য ফ্রি লাল কার্ড সুবিধা পুনর্বহাল, পরিকল্পিতভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর, প্রশিক্ষিত জনবল ধরে রাখা, শতভাগ নগরবাসীর জন্য সেবা অব্যাহত রাখা এবং সেবাবঞ্চিত এলাকায় নতুন কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ছাড়াও অতিথি হিসাবে মতামত রাখেন ডা. মুশতাক হোসেন, সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং এ্যাডভাইজার, আইইডিসিআর, মোঃ আমিনুর রসুল, সমন্বয়কারী, জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশ, রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও সিটি ইডিটর, সারা বাংলা.নেট, প্রতীক ইজাজ, সভাপতি, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এবং যুগ্ম সম্পাদক, সমাজকাল, খায়রুজ্জামান কামাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম, মিহির বিশ্বাস বার্তা সম্পাদক ডেইলি স্টেট। উক্ত সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, নির্বাহী পরিচালক, কাপ, মূল প্রবন্ধ উপস্থান করেন হেনা আক্তার রুপা, ফোকাল পার্সন বিওএসসি ইয়োথ গ্রুপ এবং সেশন চেয়ার হিসাবে ছিলেন হোসনে আরা বেগম রাফেজা, প্রেসিডেন্ট, বিওএসসি কেন্দ্রীয় কমিটি, বস্তিবাসীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোছাম্মৎ ছালমা প্রমুখ ।
নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে দরিদ্র নগরবাসী
By
নিজস্ব প্রতিবেদক :
July 30, 2026
পাঠক সংখ্যা২৩