অনেক রাত পেরিয়ে গেলে
ঘুম এসে বসে থাকে জানালার ধারে—
মাঠের ওপর নেমে আসা কুয়াশার মতো,
নিঃশব্দ,নরম,ধানের গন্ধে ভেজা।

স্বপ্ন তখন দূরের কোনো নদী
চাঁদের আলোয় যার জল দেখা যায়,
কিন্তু ছোঁয়া যায় না।

ঘুম বলে—
এসো, সব ক্লান্তি আমার কাছে রেখে যাও,
তোমার চোখের নিচে জমে থাকা
অনেক দিনের অন্ধকার আমি মুছে দেব।

স্বপ্ন বলে—
না,তাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখো না;
তার বুকে এখনও একটি অসমাপ্ত ভোর আছে,
একটি শালিক উড়ে যায়নি,
একটি পথ এখনও শিশিরে ভেজা।

তারপর রাত আরও গভীর হয়।
বাঁশবনের ফাঁক দিয়ে
হাওয়া আসে—
মনে হয় বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া
কোনো মানুষের নিঃশ্বাস।

আমি দেখি,
ঘুম আমাকে পৃথিবী থেকে একটু দূরে নিয়ে যায়,
আর স্বপ্ন ফিরিয়ে আনে
পৃথিবীরই আরও গভীরে।

ঘুমের ভেতর শরীর বিশ্রাম পায়,
স্বপ্নের ভেতর আত্মা হেঁটে বেড়ায়—
কখনও শিমুলের ছায়ায়,
কখনও নির্জন রেললাইনের ধারে,
যেখানে বিকেলের শেষ আলো
এখনও কারও জন্য অপেক্ষা করে।

ভোর হলে
ঘুম নিঃশব্দে চলে যায়,
বালিশে রেখে যায় উষ্ণতার ক্ষীণ স্মৃতি।
স্বপ্ন যায় না।

সে রয়ে যায়
চোখের ভেতর এক টুকরো নীল আকাশ হয়ে,
অপূর্ণতার মতো,
নদীর ওপারের কুয়াশার মতো,
অথবা সেই পাখিটির মতো
যে প্রতিদিন উড়ে যায়—
তবু কোথায় তার বাসা, কেউ জানে না।

হয়তো তাই
মানুষ বেঁচে থাকে দু’জনেরই আশ্রয়ে—
ঘুম তাকে বাঁচিয়ে রাখে,
আর স্বপ্ন তাকে বেঁচে থাকার কারণ দেয়।

পাঠক সংখ্যা২৩